আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন


সারা দেশব্যাপী ধর্ষণের বিরুদ্ধে শ্লোগান, রাস্তা অবরোধ,শান্তিপূর্ন মানব বন্ধনে উত্তাল। শাব্দিক অর্থে এটা যথার্থ এবং যৌক্তিক -এতে কোন সন্দেহ নেই। কারন সিলেট, নোয়াখালী সহ আরো দু-একটি অঞ্চলের ধর্ষণের লোমহর্ষক এবং বর্বরচিত ঘটনা বর্তমান বাংলাদেশের মানচিত্রকে করেছে দ্বিধাবিভক্ত। আমি বিশ্বাস করি,সরকার এবং সরকারের নির্বাহী প্রধান হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এর দায় এড়াতে চান না।বরং বিচার তরান্বিত করতে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।  আর আমার বিশ্বাস– যদি ভুল না হয় তাহলে, অবশ্যই সরকারকে এই বর্বরচিত কর্মকান্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যবেক্ষনই কাম্য হতে পারে –কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করতে –একদল স্বার্থানেষী উৎসুক জনতার শ্লোগান,রাস্তা অবরোধ, মানব বন্ধন সহ নানা কর্মসুচি পালনের তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।পাবলিক যদি এটা বিশ্বাসও করে যে, ধর্ষণের বিচার ত্বরান্বিত করতেই এই মিটিং -মিছিল আর শ্লোগান !  কিন্তু আপনার পর্যবেক্ষনে কি তাই বলছে -?-১ম পর্যবেক্ষন ঃ-সিলেটে কিন্তুু সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনই ধর্ষককে গ্রেফতারে সর্বাত্থক সহযোগিতা করছে।  অন্যান পর্যবেক্ষনে এমনতো মনে হয়নি যে, সরকার দলীয় লোকজন ধর্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিচার বিঘ্নের সৃষ্টি করছে ?তাহলে শ্লোগানে, শ্লোগানে–মিছিলে,মিছিলে –মানব বন্ধন করে  বক্তার মুখের উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের শাব্দিক অর্থ কিন্তু ধর্ষকের ধর্ষণের বিচারের চাইতেও সরকার এবং সরকার প্রধানের বিচারের দাবীতেই বেশী সোচ্চার । এতে মিছিলকারী, শ্লোগানধারী,মানব বন্ধনের উদ্যোক্তা,বক্তার বক্তব্য নিঃসন্দেহে জনমনে প্রশ্নবিধ হচ্ছে। মনে রাখবেন–১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের মতো যৌক্তিক দাবীকে উপেক্ষা করে যারা বঙ্গ মায়ের অঙ্গচ্ছেদ বলে বঙ্গভঙ্গকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছিলেন– তারা কি পেরেছিলেন অবিভক্ত ভারত স্বাধীন করতে ? ১৯৪৭ সালে ধর্মের দোহাই দিয়ে  যারা সাম্প্রদায়িকতার ঝড় তুলে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছিলেন, তারাও কি পেরেছিলেন পাকিস্তান ভাঙ্গন রোধ করে, দুই অংশের শ্রেষ্ট শাসকে পরিনত হতে?  না, পারেন নি। খেয়াল করুন, ৪৭ সালে যেখানে ঢাকার রাজপথে  সাম্প্রদায়িকতার ঝড় তুলে  মিছিলে, মিছিলে, শ্লোগানে, শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে পাকিস্তানের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো-সেখানে মাত্র ৪ বৎসরের ব্যবধানে এই ঢাকার রাজপথেই একটি অসাম্প্রদায়িক মিছিলে সকল ধর্ম বর্নের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শ্লোগানে,শ্লোগানে বাংলা ভাষার দাবীতে পাকিস্তান বিভক্তির সূচনার মধ্য দিয়েই সকল অপশক্তির তৎপরতার অবসান হলো। সুতারং সার্বজনীন কোন মহৎ উদ্দেশ্যকে ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্টান অথবা রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব লক্ষ্যে পৌছতে পেরেছে –এমনটির ঐতিহাসিক সত্যতা বিরল। তাই সকলকে সতর্ক হয়ে শ্লোগান, মিছিল, এমনকি মানব বন্ধনের মতো কর্মসুচি পালন করা উচিত, যাতে মহৎ উদ্দেশ্য গুলো ব্যাহত না হয়।
অধ্যাপক এমদাদুল হক বাবুল পূবধলা সরকারি কলেজ।

আরও পড়ুন