আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশে ধর্ষণ একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই মেলে ধর্ষণের খবর। ধর্ষণ করেও ক্ষান্ত হয়না ধর্ষকরা, ভূক্তভোগীকে করা হয় নৃশংসভাবে হত্যা। ধর্ষণ নামক ব্যাধি নারীদের কাছে আজ এক আতংকের নাম। এই করোনাকালীন সময়েও ধর্ষকদের ভয়াল থাবা থেকে নারীরা রক্ষা পাচ্ছে না। পাঁচ বছরের শিশু থেকে সত্তুর বছরের বৃদ্ধা কেউ ই নিরাপদ নেই আজকে। সম্প্রতি সিলেট মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী, স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে আরেকটি আলোচিত ঘটনা হল নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং সেটার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়া।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর হিসেব মতে, “চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৪৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে ৫৯টি৷ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪১ জন নারীকে৷ ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন৷ আর ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ১৯২ জন৷ ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ জন৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে ৷ ২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৪১৩ জন৷ হত্যা করা হয়েছে ৭৬ জনকে৷”
ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন রোধে বিভিন্ন আইন ও শাস্তির বিধান থাকলেও বিচারহীনতার  সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ যেন কোনভাবেই থামছে না। ধর্ষণের মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকার উদাহরণও ভূড়ি ভূড়ি রয়েছে। কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় কলেজ ছাত্রী তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তিন বছর পার হলেও এখনও তদন্তেই অগ্রগতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সারাদেশে তোলপার না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কারও টনক নড়ে না। জনগণের চাপের মুখে সরকার এবং প্রশাসন সরব হলেও সেটার তদন্ত থেকে শুরু করে সবকিছু খুবই ধীর গতিতে চলে। আসকের হিসেবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন বাংলাদেশে কমপক্ষে চার জন নারী ধর্ষণের শিকার হন এবং ধর্ষণ মামলায়  শকতরা মাত্র তিন ভাগ অপরাধীরা শাস্তি পেয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে এদেশে নারীর প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নেতিবাচক। পাশাপাশি সামাজিক মল্যবোধের অবক্ষয় বড় একটা বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে। বছরের পর বছর ধরে আমরা যে সমাজ এবং রাষ্ট্র ব্যবস্হা গড়ে তুলেছি যেখানে ধর্ষকে ধর্ষণে উদ্বুদ্ধ করে এবং ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে ধর্ষকে আশ্রয় প্রদান করে সে সমাজ এবং রাষ্ট্র সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে। বিচারহীনতার যে অপসংস্কৃতি এই রাষ্ট্র যুগ যুগ ধরে বয়ে চলছে সেটার ফলেও ধর্ষণ নামক ব্যাধির কোন সুরাহা হচ্ছে না।
লেখক:-

আরও পড়ুন