আজ শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৪ অপরাহ্


গলদা চিংড়ি উৎপাদনের ভর মৌসুমে দর পতন। যার কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন চিংড়ি চাষিরা। করোনাকালে নানা সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার মধ্যে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। চিংড়ি শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের আন্তরিকতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

বাগেরহাটে উৎপাদিত চিংড়ির ৯০ শতাংশই বিদেশে রপ্তানি হয়। সম্ভাবনাময় এ শিল্পে একের পর এক ধাক্কা আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি সম্প্রতি করোনার কারণে রপ্তানি কমে গেছে।

বাগেরহাটে ৬৬ হাজার ৭১৩ হেক্টর জমিতে ৭৮ হাজার ৬৮৫টি বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৬ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন বাগদা ও ১৫ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন গলদা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩৩ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০২০-২১ অর্থ বছরেও ভাল উৎপাদনের আশা করছিলেন চাষিরা।

তবে বিক্রয়যোগ্য মাছ ধরার ঠিক আগেই হঠাৎ করে দরপতন হয়েছে গলদা চিংড়িতে। এটা শুধু এবছরই নয়, দীর্ঘদিন ধরে যখন বাজারে গলদা চিংড়ির যোগান বেশি থাকে তখনই দাম কমে যায়। এই দরপতনকে চিংড়ি রপ্তানিকারকদের কারসাজি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফকিরহাট উপজেলার বানিয়াখালী গ্রামের চাষি অভিজিৎ রায় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে গলদা ও বাগদা চিংড়ির দাম একদম কম ছিল। পরবর্তীতে কিছুদিন দামটা একটু বেড়েছিল। যে সময়টা দাম বেশি ছিল, তখন বাজারে তেমন মাছ ছিল না। এখন ভর মৌসুম, আমরা সবাই মাছ ধরছি। এই সময়ে এসে মাছের ধাম একদম কমে গেছে। গেল এক সপ্তাহে আকার ভেদে প্রতি কেজি গলদা চিংড়িতে দুই থেকে তিনশ’ টাকা দাম কমেছে।’

চাষি সুবোধ কুমার বালা বলেন, ‘নানা দুর্যোগের কারণে প্রতিবছরই লোকসান গুণতে হয় আমাদের। এরপরেও ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করি। অথচ বেচার সময় দাম পাই না। এদিকে দিন দিন মাছের খাবার ও আনুসঙ্গিক সবকিছুর দাম বাড়লেও গলদার দাম কমছে। ফলে আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।’

ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিটলার গোলদার বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলে প্রচুর গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়। কিন্তু যারা উৎপাদন করে- মধ্যসত্বভোগীদের কারণে তারা লাভের মুখ দেখতে পারে না। যখন বাজারে চিংড়ি বেশি থাকে, তখন কোম্পানির মালিকরা দাম কমিয়ে দেয়। এ কারণে চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েন। সরকার যদি যথাযথভাবে বাজার মনিটরিং ও নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়, তাহলে চিংড়ি চাষিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমরা বার বার লোকসানের মুখে পড়ছি। তারপরেও জীবীকার তাগিদে ও দেশের স্বার্থে আমরা চিংড়ি চাষ করি। কিন্তু চিংড়ি উৎপাদনের ভর মৌসুমে মাছের দাম কমে যায়। মাছ উৎপাদনের জন্য আমরা সারা বছর যে টাকা ও শ্রম বিনিয়োগ করি দাম কমার কারণে মুনাফা অর্জন করতে পারি না। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারিভাবে বাজার মনিটরিংসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সরকারী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া চিংড়ি নীতিমালা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মৎস্য বিভাগের পরামর্শ ও চাষিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ বছর গলদা-বাগদার উৎপাদন ভালো হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ অমূলক নয়, কোভিড পরিস্থিতিতে রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হওয়ায় গলদা চিংড়ির দাম কিছুটা কমেছে। তবে রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে দাম বাড়বে। গলদা চিংড়ির নতুন বাজার সৃষ্টির জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে।’ সূত্র: রাইজিংবিডি

আরও পড়ুন