আজ শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০২:১৬ অপরাহ্


FILE PHOTO: Small bottles labeled with a "Vaccine COVID-19" sticker and a medical syringe are seen in this illustration taken taken April 10, 2020. REUTERS/Dado Ruvic/Illustration/File Photo

করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন কেনার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বরাদ্দ করা অর্থের পরিমাণ ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রথম পর্যায়ে দেড় কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারজাত হওয়ার প্রথম দিকেই যেন সংগ্রহ করা যায়, সেজন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এজন্য পাঁচটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর আগে ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে ১২০০’ কোটি টাকারও বেশি অর্থ চাওয়া হয়েছিল। এই অর্থ দিয়ে অক্সফোর্ডে উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের তিন কোটি ডোজ ভ্যাসসিন কেনার কথা বলা হয়েছিল। এই চাহিদার বিপরীতে স্বাস্থ্য বিভাগকে অর্ধেক টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন কেনা, পরিবহন ও কোল্ড চেইনে পৌঁছানো পর্যন্ত তিন কোটি ডোজ কিনতে প্রয়োজন এক হাজার ২৭১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এই অর্থের অর্ধেক অর্থাৎ ৬৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভ্যাকসিন কেনার  কাজে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি আরও ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে ভ্যাকসিন রাখা ও পরিবহনের জন্য কোল্ড চেইন ইকুইপমেন্ট কেনা, এডি সিরিঞ্জ সেইফটি বক্স ও পরিবহন খরচ, লোকজনকে প্রশিক্ষণ, নিরীক্ষা, সুপারভাইজিং এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য। এই অর্থ চলতি বছরের বাজেটে করোনার জন্য রাখা ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন কিনতে সরকারের খরচ পড়বে চার ডলার (বাংলাদেশি ৩৪০ টাকা)।  জনসাধারণের কাছে বিক্রি করা হবে পাঁচ ডলার বা ৪২৪ টাকায়। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন কোটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন কেনার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিকে উৎপাদনে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ ডলার করে একটি ভ্যাকসিন কেনা হবে। এর মধ্যে সেরাম পাবে চার ডলার এবং তাদের লোকাল এজেন্ট বেক্সিমকো পাবে এক ডলার করে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন কেনার জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ অর্থ চলতি বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজনে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন